The time tribune
The time tribune
আপডেট : বুধবার ১০ই জুন ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, প্রায় সাড়ে ৮ হাজার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। তাদের একটি বড় অংশ বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি পরিচয়ে লোকজনকে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয় ঢাকা। বাংলাদেশ চায়, দেশে অবস্থানরত অবৈধ ভারতীয় নাগরিকদের নিয়মতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভারতে ফেরত পাঠাতে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ভারত সরকারের কাছে একাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এসব চিঠির কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে অবস্থান এবং কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকার প্রবণতা দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসায় এসে দেশে থেকে যাওয়ার প্রবণতা গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতীয় নাগরিকরা মূলত দুইভাবে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন। প্রথমত, বৈধ ভিসায় দেশে প্রবেশের পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকে আর নিজ দেশে ফিরে যান না। দ্বিতীয়ত, তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, বায়িং হাউজ, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন এনজিওতে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়াই কাজ করছেন অনেকে।
সূত্রগুলো বলছে, অবৈধভাবে কর্মরত এসব বিদেশি নাগরিকের একটি অংশ হুন্ডি বা অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সরকার সম্ভাব্য কর ও রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের অর্ধেকের বেশি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে কাজ করছেন। ঢাকার সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় তারা মার্চেন্ডাইজার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, ডাইং ও ওয়াশিং বিশেষজ্ঞ এবং ফ্লোর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বায়িং হাউজে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মান নিয়ন্ত্রণের কাজে ভারতীয় নাগরিকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাতেও তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সমন্বয়ে বিদেশি নাগরিকদের একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এসে কেউ যাতে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে না পারেন, সে জন্য কঠোর ভিসা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোও আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে চাওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।