দ্য টাইম ট্রিবিউন
দ্য টাইম ট্রিবিউন
আপডেট : মঙ্গলবার ৪ঠা আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
সমুদ্রের বুকে ৩৬ দিনের লড়াই: বাংলাদেশি জেলেদের হাতে প্রাণ ফিরে পেলেন শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে
সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার বিকল হয়ে টানা ৩৬ দিন গভীর জলে ভেসে থাকার পর অবশেষে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন শ্রীলঙ্কার দুই নাগরিক। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভেসে আসা এই বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে এসেছেন কুতুবদিয়া-মহেশখালী অঞ্চলের বাংলাদেশি জেলেরা।
উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কান দুই নাগরিক হলেন এস এইচ চামিন্দা এবং তাঁর তরুণ পুত্র সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং। তাঁদের বাড়ি শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোড অঞ্চলে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, কিছুদিন আগে বাবা-ছেলেসহ মোট চারজন শ্রীলঙ্কান জেলে সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশে রওনা হন। তবে মাঝসমুদ্রে হঠাৎই তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পথভেদে অন্য একটি ট্রলারের সাহায্যে বাকি দুইজন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারলেও, নিজেদের বিকল ট্রলারটিকে বাঁচানোর আকুলতায় সেটি ছেড়ে আসেননি চামিন্দা ও তাঁর ছেলে।
এর পর থেকেই বঙ্গোপসাগরের দিগন্তজোড়া জলরাশিতে খাবার ও পানীয় সংকটের মধ্যে ধুঁকে ধুঁকে কাটতে থাকে তাঁদের দিন। দিকভ্রান্ত হয়ে টানা ৩৬ দিন ভেসে থাকার পর ট্রলারটি একপর্যায়ে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করে।
গত বুধবার রাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের বাসিন্দা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারের নজরে আসে অস্বাভাবিকভাবে ভেসে থাকা ওই ট্রলারটি। জিয়াউর রহমানের ট্রলারে সে সময় মোট আটজন বাংলাদেশি জেলে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জিয়াউর রহমান জানান, দূরের সাগরে ট্রলারটিকে ভাসতে দেখে তারা আস্তে আস্তে সেটির দিকে এগিয়ে যান। কাছে গিয়ে দেখেন ভেতর দুইজন বিদেশি নাগরিক জীবনের চরম সংকটে পড়ে আছেন।
তিনি বলেন, "কাছে গিয়ে দেখলাম দুইজন মানুষ এতোটাই দুর্বল যে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতেও পারছিলেন না। ভাষা না বোঝায় প্রথমে তাঁদের কোনো কথা বুঝতে পারছিলাম না। তবে তাঁরা হাতের ইশারায় বারবার সাহায্যের আকুতি জানাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন— শ্রীলঙ্কান, শ্রীলঙ্কান।"
পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে কালবিলম্ব না করে জিয়াউর রহমান ও তাঁর সঙ্গীরা ওই দুই শ্রীলঙ্কানকে নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং তাঁদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে উপকূলে নিয়ে আসেন।
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় সাগরে ভাসতে থাকায় তাঁদের শারীরিক অবস্থা বেশ করুণ হয়ে পড়েছিল। উদ্ধারের পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে তাঁদের প্রয়োজনীয় শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কায় থাকা তাঁদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।